সূরা আল ফুরকান (২৫:৭০) কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

শাতিমে রাসূল ( রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবমাননাকারীদের বিধান)

-আল কুর'আন ও হাদিসের আলোকে সালফে-সালেহীনদের মতামত -

..

ইন্নাল হামদা লিল্লাহ।ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু 'আলা রাসূলিল্লাহ।' সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্‌ তা'য়ালার জন্য যিনি মানুষকে সর্ববিষয়ে বিশেষ জ্ঞান ও শিক্ষা দিয়ে তাঁর সৃষ্টিকূলের মাঝে প্রেরণ করেছেন। দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বমানবতার মুক্তির অগ্রদূত, এ বিশ্বের জন্য রহমত স্বরুপ বিশ্বনবী জনাবে মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর উপর। 

 

যেমনটি আল্লাহ্‌ তা'য়ালা পবিত্র কালামে পাকে ইরশাদ করেন-  

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ 

 

 

আমি আপনাকে[রাসূলুল্লাহকে] বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। [সূরা-আম্বিয়া:১০৭] 

 

যাকে ভালো না বাসলে কখনো ই প্রকৃত মুমিন হওয়া যায় না। 

 

যেমনটি আল্লাহ্‌ তা'য়ালার পরোক্ষ ওহী হাদীসে বর্ণিত--  

 

ﻋﻦ ﺃﻧﺲ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ( ﻻ ﻳﺆﻣﻦ ﺃﺣﺪﻛﻢ ﺣﺘﻰ ﺃﻛﻮﻥ ﺃﺣﺐ ﺇﻟﻴﻪ ﻣﻦ ﻭﺍﻟﺪﻩ ﻭﻭﻟﺪﻩ ﻭﺍﻟﻨﺎﺱ ﺃﺟﻤﻌﻴﻦ হযরত আনাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন-- কোন ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পিতা-মাতা, এবং তার সন্তান ও সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে বেশি ভালোবাসবে ।" [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৫, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৭৭] 

 

কিন্তু দু:খজনক হলে ও সত্য সৃষ্টির কিছু নিকৃষ্ট জীব মানবকূলের আশার শিরোমণি,মুমিনদের প্রাণের খনি নবী মুহাম্মাদ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সম্মান,তাঁর শানে ব্যংগ,তাঁকে নিয়ে জঘন্য কটূক্তি করছে, ব্যাঙ্গচিত্র আঁকছে। কাফির,মুরতাদ,ইসলামবিদ্বেষী রা আজ পবিত্র কুর’আনের অবমাননা করছে, মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা করছে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ]- এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে, সর্বোপরি পৃথিবীর ১০০ কোটি মুসলিমকে দিনরাত অপমান করছে। 

 

আর তারা এই সব করছে বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে। বিগত শতাব্দীগুলোতে তারা এই একই কাজ করেছে খ্রিস্টধর্মের দোহাই দিয়ে আর আজ করছে বাকস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে। একেক সময় একেক মিথ্যা অজুহাতের আড়াল থেকে তারা এসব হীন কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে। 

 

যদিও তারা এটা কখনোই স্বীকার করতে চায় না কিন্তু প্রকৃত সত্য হল এসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে তাদের ঐতিহাসিক এবং অন্তর্নিহিত তীব্র ইসলামবিদ্বেষ। এটাই মূল কারণ 

 

আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল এর সত্য সাক্ষী ই দেন - 

 

"...শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখ ফুটেই বেরোয়। আর যা কিছু তাদের অন্তরে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। [সূরা আলে ইমরান:১১৮] 

 

অর্থাৎ কুফফার,মুরতাদ,ইসলামবিদ্বেষীদের কর্তৃক প্রিয় রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] অবমাননা নতুন কিছু নয়। এটা ইসলামের সুচনালগ্ন থেকে,যখন থেকে হক্ব ও বাতিলের দ্ধন্ধ শুরু হয়েছে তখন থেকেই এর উত্থান। 

 

নি:সন্দেহেই আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল অবমাননা সৃষ্টিজগতের সবচেয়ে জঘন্য ও অমার্জনীয় কার্যের অন্তর্ভুক্ত । যদি কেউ মুসলিম হয়ে ও এ হেন কর্ম করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যাবে এবং যদি কোনো কাফির তা করে তাহলে তার রক্ত সর্বাবস্থায় হালাল হয়ে যাবে [তার সাথে কোনো চুক্তি থাকুক কিংবা নাই থাকুক] এবং তারা 'শাতেমে রাসূল' তথা 'রাসূল অবমাননাকারী' হিসেবে গণ্য হবে এবং তার শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড। এবিষয়ে সালফে সালেহীনদের ইজমা বিদ্যমান। 

 

কিন্তু এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর কটূক্তিকারীদের জন্য শারী’আহর বিধান কী হবে তা নিয়ে উম্মাতে মুহাম্মদিকে বর্তমান সময়ের মত এতটা দ্বিধাগ্রস্ত পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। যেখানে স্বয়ং রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, এই বিষয়ে দুটি বকরীরও দ্বিমত হওয়ার সুযোগ নেই। অসংখ্য হাদিস ও সাহাবাদের ঈমানদীপ্ত কাহিনির পরেও আমাদের অধিকাংশ আলেম উলামাদের কেমন যেন দ্বিধা !! তাছাড়া বিষয়টির ক্রিয়া অন্যান্য মুসলিম দের মধ্যে ও ছড়াচ্ছে। তারা এ বিষয়ে শরীয়াহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞাত না থাকার কারণে বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং অনেক টা আপোষনীতি গ্রহণ করেছে।যা কখনোই কাম্য নয়। 

তাই আমার এই নোট লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো শাতেমে রাসূল[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] সম্পর্কে শরীয়াহর সেই বিধানগুলো তুলে ধরা এবং কিঞ্চিৎ হলেও আমাদের মাঝের এই বিভ্রান্তি গুলা অপনয়ন করার চেষ্টা করা। ওমা তৌফিকি ইল্লা বিল্লাহ। 

 

যেমনটি বলা হয়েছে এটা একটি দলীল ভিত্তিক নোট, তাই এখানে তেমন ভুমিকা থাকবে না। পাঠকগণ সেটা গ্রহণযোগ্য চিত্রে নিবেন বলে ই আশা। 

.............. # প্রথমেই এখানে কতক শাতেমে রাসূলদের পরিণতি সম্পর্কে উদ্ধৃতি করা হলো -যা ঘটেছিলো রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর যুগে তথা ইসলামের সোনালী সময়ে। 

 

* কাব বিন আশরাফের গুপ্ত হত্যাঃ 

 

কাব বিন আশরাফ ছিলো একজন ইহুদী নেতা এবং সফল কবি । সে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর বিরুদ্ধে কথা বলতো,তাঁকে নিয়ে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করতো এবং বিভিন্ন অশ্লীল কবিতা রচনা করতো। তাই রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেন: 

 

"কে আছো কাব ইবনে আশরাফের ব্যবস্থা করবে কারণ সে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের ক্ষতি করেছে,আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিচ্ছে?" 

.. 

আল আউস গোত্রের একজন আনসার,মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ [আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন] বললেন, 

 

" হে আল্লাহ্‌ র রাসূল! আমি করব! আপনি কি চান আমি তাঁকে হত্যা করি?" 

 

আল্লাহ্‌ র রাসূল[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]বল্লেন, "হ্যাঁ।" 

 

মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ এখন অঙ্গীকার করেছেন,তিনি কথা দিয়েছেন যে কাব বিন আশরাফ কে হত্যা করবেন। 

 

তিনি বাসায় গিয়ে চিন্তা করতে লাগলেন এবং এই ব্যাপারটা তার কাছে যেন কঠিন মনে হলো। কাব ইবনে আশরাফ থাকতো ইহুদী বসতির মধ্যে,তার সমর্থক দিয়ে পরিবেষ্টিত একটি দূর্গে এবং এটি ছিলো অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ।তিনি ভেবে ভেবে কোনো কুল-কিনারা পাচ্ছিলেন না এবং এটা তাঁর নাওয়া খাওয়া বন্ধ করে দিলো,শুধু সেটুকু বাকী যে সামান্য বেঁচে থাকার প্রয়োজন।প্রায় তিনদিন তিনি কোনো কিছু আহার বা পান করেন নি। 

 

এই খবর আল্লাহ্‌ র রাসূলের নিকট পৌঁছলে তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন,"তোমার কি হয়েছে মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ? এটা কি সত্য যে তুমি আহার পান করা বন্ধ করে দিয়েছো?" 

 

মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ বললেন,"জি হ্যাঁ।" 

 

আল্লাহ্‌ র রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করলেন,"কেনো?" 


তিনি বল্লেন,"আমি আপনার কাছে একটি অঙ্গীকার করেছি এবং আমি চিন্তিত যে আমি সেই অঙ্গীকার রাখতে সক্ষম হবো কিনা।" 

 

আল্লাহ্‌ র রাসূল[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাঁকে বল্লেনঃ" তোমাকে যেটি করতে হবে তা হলো চেষ্টা,বাকিটা মহান আল্লাহ্‌ র উপর ছেড়ে দাও।" 

মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ[আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন]," হে আল্লাহ্‌ র রাসূল! আমাকে তাহলে আপনার বিরুদ্ধে কথা বলার অনুমতি দিতে হবে। 

 

{পরিকল্পনার বিষয় হলো যে,আমাকে আপনার ব্যাপারে নেতিবাচক কথা বলতে হবে} 

রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] বললেন, "তোমার যা খুশি বলো!" 

 

মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ এবং আওস গোত্র থেকে আনসারদের একটি দল ফাঁদ পাতার জন্য কাব ইবনে আশরাফের সাথে সাক্ষাত করতে গেলেন। মুহাম্মাদের সাথীদের মধ্যে একজন ছিলেন আবু নায়লা।এটি কথিত আছে যে তিনি কাব বিন আশরাফের সৎভাই ছিলেন। 

 

তারা কাব বিন আশরাফের সাথে দেখা করলেন এবং তাকে রাসূলের বিরুদ্ধে বলতে লাগলেন। 

 

কাব বললো,"আমি তোমাদের আগেই বলেছি এবং সামনে তোমরা আরো খারাপ সময় দেখবে।" 

পরিকল্পনা মোতাবেক,ফাঁদ হিসেবে মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ কাব বিন আশরাফের সাথে সখ্যতা তৈরী করে তার কাছে তাঁদের অস্ত্র রেখে কিছু ধার নিলেন।যাতে পরের বার অস্ত্র আনার বাহনা করতে গেলে সে সন্দেহ না করে। 

 

পরবর্তীতে তাঁরা তাঁদের অস্ত্র নেয়ার জন্য তার সাথে সাক্ষাতের একটি সময় নির্ধারণ করলেন যা ছিলো গভীর রাতে। 

কাবের স্ত্রী বললো,"আমি এই কন্ঠে রক্তের গন্ধ পাচ্ছি।" 

 

কাব বলল,চিন্তা করো না,"এটি হচ্ছে আমার বন্ধু মাসলামাহ এবং আমার ভাই আবু নায়লা।" 

 

অত:পর সে নিচে গেলো মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ এবং তার সঙ্গীদের সাথে দেখা করতে। 

 

তারা একটি সংকেত ঠিক করে নিলেন। মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ তাদের বললেন,"যখন তোমরা আমাকে ওর মাথা ধরতে দেখবে,তলোয়ার দিয়ে তাকে শেষ করে দিবে।"-এটাই ছিলো তাদের সংকেত। 

 

কাব আসতেই তারা তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে "শিব আল আযুজ" নামক স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হোন। 

সেখানে পৌঁছানোর পর, মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ কাবকে বললেন,"বাহ! তোমার থেকে অনেক সুন্দর ঘ্রাণ আসছে।(তার চুলে কোনো সুগন্ধি লাগানো ছিলো)আমি কি এর ঘ্রাণ নিতে পারি?" 

 

সে বললো,"হ্যাঁ নাও।" 

 

মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ তার হাত দিয়ে কাবের মাথাটাকে টেনে নিলেন এবং শুকে বললেন,"এটা তো দারুন(এটি ছিলো দেখার জন্য একটি পরীক্ষা)।" 

 

সে বললো,"তুমি কি আরেকবার আমাকে এর ঘ্রাণ নিতে দেবে?" 

 

সে বললো,"হ্যাঁ, নাও।" 

 

তিনি তাকে পুনরায় ধরলেন এবং এবার তলোয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করতে লাগলেন।কিন্তু সেগুলা তাকে মারার জন্য যথেষ্ট ছিলো না এবং সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে উঠলো।তাৎক্ষণিকভাবে সবগুলো দূর্গতে আলো জ্বলে ওঠলো। মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ বলেন,"আমার মনে পড়ল যে আমার কাছে একটি ছুরি আছে।তাই আমি সেটা বের করে তার তলপেটের নিন্মাংশের হাড় পর্যন্ত প্রবেশ করালাম এবং সে স্থান ত্যাগ করলাম।" 

মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ এবং আওস গোত্রের লোকেরা এভাবেই দেখে নিয়েছিলেন সেই লোকটিকে যে আল্লাহ্‌ র রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]কে তিরষ্কার করেছিলো। {সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৮১১} 

* আবু রাফে-এর গুপ্তহত্যার ঘটনাঃ 

 

খাজরাজ গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনে আতিক[আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন]আবু রাফেকে হত্যা করতে তার দূর্গে প্রবেশ করলেন।অত:পর তিনি আবু রাফের শয্যাঘরে পৌঁছে গেলেন। কারণ তিনি চাবিগুলো হাতে পেয়েগিয়েছিলেন। পুরোপরি অন্ধকার থাকার কারণে তিনি আবু রাফেকে দেখতে পাচ্ছিলেন না। সেটি ছিলো গভীর রাত। 

 

তিনি তখন সরাসরি আবু রাফে কে ডাকলেন।বললেন,আবু রাফে তুমি কোথায়? আবু রাফে আওয়াজের জবাব দিলো। 

.. 

তিনি তখন শব্দের উৎসের দিকে গেলেন এবং আঘাত করলেন।কিন্তু তিনি তাকে প্রথম আঘাতে হত্যা করতে পারলেন না। সে সাহায্যের জন্য চিৎকার করে উঠলো। 

 

আব্দুল্লাহ বিন আতিক উপস্থিত বুদ্ধিতে খুব চতুর ছিলেন।তিনি সাথে সাথে পিছু হটে আবার ফিরে আসলেন এবং সাহায্যকারী সেজে আওয়াজ পরিবর্তন করে এসে বললেন: আবু রাফে তোমার কি হয়েছে? 

 

আবু রাফে জবাবে বললো,"তোমার মায়ের উপর অভিশাপ,এখানে কেউ আছে যে আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে।" 

.. 

তখন আব্দুল্লাহ বিন আতিক আবার আওয়াজের দিকে আঘাত করলেন এবারও তাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলেন। 

 

এবং আবু রাফে আবার ও সাহায্যের জন্য চিৎকার করলো! 

 

তিনি আরেকবার পিছু হটলেন এবং ফিরে এলেন গলা পরিবর্তন করে। আবু রাফে তখন আগে থেকে উপুড় হয়ে শোয়া ছিলো, কারণ সে আগে দুইবার আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলো। 

 

এবার আব্দুল্লাহ বিন আতিক, তার তলোয়ারটি আবু রাফের পেটের মধ্যে গেঁথে দিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে মৃত্যুর মুখে পতিত না হয়।কিন্তু তিনি তখনো ও নিশ্চিত ছিলেন না। 

 

আব্দুল্লাহ ইবনে আতিক একটি মই বেয়ে নিচে নেমে আসছিলেন। কিন্তু উত্তেজনার বশে তিনি তাঁর পা ভেঙ্গে ফেল্লেন। 

.. 

তিনি তাঁর সাথীদের বল্লেন, তোমরা গিয়ে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]কে সুসংবাদ পৌঁছে দাও।আমি এখানে থাকবো আর তার মৃত্যুর ঘোষণা শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো! 

 

এরপর যখন তিনি আবু রাফের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলেন,তখন তিনি বল্লেন, "আমি আল্লাহ্‌ র নামে শপথ করে বলছি এর চেয়ে সুমিষ্ট কথা আমার জীবনে আর কখনো শুনিনি।" 

 

তারপর তিনি মদীনার দিকে ছুটে গেলেন এবং আল্লাহ্‌ র রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাঁকে দেখে হাসোজ্জ্বল চাহিনিতে বললেন," সাফল্যে উদ্ভাসিত হোক তোমার জীবন!" {সহীহ বুখারী,হাদীস নং-৩৮১৩} 

.. 

* উম্মু ওয়ালাদ নাম্নী এক দাসীর হত্যার ঘটনাঃ 

 

একজন অন্ধ সাহাবীর একটি দাসী ছিল।তার নাম ছিলো উম্মু ওয়ালাদ। সেই দাসীটি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কে গালাগাল করতো। অন্ধ সাহাবী তাকে নিষেধ করেন।কিন্তু সে নিষেধ অমান্য করে, তিনি তাকে হুমকি দেন, তাতেও সে বিরত থাকে না।দাসীটি সাহাবীটির সকল প্রয়োজনের খেয়াল রাখতো। দাসীটি থেকে ঐ সাহাবীর দুইটি সন্তান ছিলো এবং সে ঐ সাহাবীর আরেকটি সন্তান তার পেটে ধারণ করছিলো। 

 

একদা রাতে দাসীটি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কে গালাগাল শুরু করে। তখন সাহাবীটি খঞ্জর দিয়ে তার পেটে বিদ্ধ করলেন। এবং জোরে চাপ দিলেন, যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়। এমনকি দাসীটির দুই পায়ের মাঝখান দিয়ে তার পেটের বাচ্চা বের হয়ে গেলো এবং বাচ্চাটি রক্তে রঞ্জিত হয়ে গেলো। 

 

সকালে বিষয়টি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর কাছে উপস্থাপিত হয়। 

 

তখন তিনি সবাইকে একত্র করে বল্লেন," যে এ কাজ করেছে তাকে আল্লাহর কসম ও আমার উপর থাকা তার হকের কসম দিচ্ছি সে যেন দাঁড়িয়ে যায়। " 

 

তখন সেই অন্ধ সাহাবী দাঁড়ালেন। তিনি লোকদের ভীড় ঠেলে রাসূলের কাছে এগিয়ে গেলেন। রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর সামনে গিয়ে বসে পড়লেন। 

 

এবং বললেন- 

 

" হে আল্লাহর রাসূল! আমি ই সেই ব্যক্তি যে এই কাজ করেছে। সে আপনাকে গালাগাল করতো, আপনার কুৎসা রটাতো। আমি তাকে এসব করতে বাঁধা দিতাম। কিন্তু সে বিরত হতো না। তাকে হুমকি ধামকি দিতাম, তবু সে থামতো না। তার থেকে আমার হীরার টুকরোর মত দু’টি সন্তান আছে। আমি তাকে খুব ভালবাসতাম। গতরাতে সে যখন আপনাকে অভিশাপ দিতে শুরু করে।তখন আমি একটি খঞ্জর তার পেটে চেপে ধরি। তারপর তা চাপ দিয়ে তাকে হত্যা করি।" 

 

তখন রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বললেন- 

 

" লোকেরা! তোমরা সাক্ষী থেকো! এর রক্তের কোনো মূল্য নেই।" ( অর্থাৎ তার জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ নেই এবং যে তাকে হত্যা করেছে তার ও কোনো শাস্তি নেই) {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৪৩৬৩, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১০৩, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১১৯৮৪, বুলুগুল মারাম, হাদীস নং-১২০৪} 

.. 

 

# মহাপবিত্র কুরআনের ভাষায় রাসূল[সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] অবমাননার শাস্তিঃ 

 

কুরআনে কারীমে শাতেমে রাসূলের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হবে মর্মে ঘোষণা হয়েছে। 

 

ইরশাদ হচ্ছে- 

 

 

 

 إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّـهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّـهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذَابًا مُّهِينًا ﴿٥٧ 

 

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি। [সূরা আহযাব:৫৭] 

.. 

তারপর তাদের হত্যার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন- 

 

مَّلْعُونِينَ ۖ أَيْنَمَا ثُقِفُوا أُخِذُوا وَقُتِّلُوا تَقْتِيلًا ﴿٦١﴾ سُنَّةَ اللَّـهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ ۖ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّـهِ تَبْدِيلًا ﴿٦٢

অভিশপ্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং প্রাণে বধ করা হবে। যারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে, তাদের ব্যাপারে এটাই ছিল আল্লাহর রীতি। আপনি আল্লাহর রীতিতে কখনও পরিবর্তন পাবেন না। [সূরা আহযাব:৬১-৬২] 

 

কুরআন কারীমের অন্যত্র ঘোষণা হচ্ছে- 

 

فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ ﴿١١﴾ وَإِن نَّكَثُوا أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ ۙ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ ﴿١٢﴾ أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّـهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ﴿١٣ 

 

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি। আর যদি ভঙ্গ করে তারা তাদের শপথ প্রতিশ্রুতির পর এবং বিদ্রুপ করে তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে, তবে কুফর প্রধানদের সাথে যুদ্ধ কর। কারণ, এদের কেন শপথ নেই যাতে তারা ফিরে আসে। তোমরা কি সেই দলের সাথে যুদ্ধ করবে না; যারা ভঙ্গ করেছে নিজেদের শপথ এবং সঙ্কল্প নিয়েছে রসূলকে বহিস্কারের? আর এরাই প্রথম তোমাদের সাথে বিবাদের সূত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? অথচ তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য হলেন আল্লাহ, যদি তোমরা মুমিন হও। [সূরা তওবা:১১-১৩] 

.. 

 

# আল্লাহ্‌ তা'য়ালার পরোক্ষ ওহী হাদীসের ভাষ্যমতেঃ 

 

 

ﻣﻦ ﺳﺐ ﻧﺒﻴًّﺎ ﻓﺎﻗﺘﻠﻮﻩ ﻭﻣﻦ ﺳﺐ ﺃﺻﺤﺎﺑﻰ ﻓﺎﺿﺮﺑﻮﻩ হযরত আলী [রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত। 

 

রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেন- 

 

" যে ব্যক্তি আমাকে গালি দেয়, তাকে হত্যা কর। আর যে আমার সাহাবীকে গালি দেয়, তাকে প্রহার কর।"{জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২২৩৬৬, জামেউল জাওয়ামে, হাদীস নং-৫০৯৭, দায়লামী, ৩/৫৪১, হাদীস নং-৫৬৮৮, আস সারেমুল মাসলূল-৯২} 

.. 

--আরবী অভিধানে ছব্ব [গালি] বলা হয়- কোন বিষয়ে এমন কথা বলা, যার দ্বারা উক্ত বিষয়ে দোষ ও দুর্বলতা সৃষ্টি হয়। {মেরকাত} 

 

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন- "যে কথা সমাজে খারাপ ও দোষ এবং ত্রু'টি হিসেবে বলা হয় তা’ই 'ছব্ব' তথা গালি।" {আস সারেমূল মাসলূল-৫৩৪} 

 

 

 

# সাহাবা [রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম]-দের জীবন থেকেঃ 

 

'গুরফা বিন হারেস আল কিন্দী' নামের একজন সাহাবী ছিলেন। তিনি এমন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। যার সাথে এ চুক্তি ছিল যে, তার জান-মালের হিফাজতের দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রপ্রধানে(খলীফাহ)র। বিনিময়ে সে ইসলামী রাষ্ট্রে কোষাগারে কর জমা দিত। 

 

হযরত গুরফা বিন হারেস আল কিন্দী লোকটিকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। লোকটি জবাবে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কে গালি দিল।তখন হযরত গুরফা লোকটিকে সেখানেই হত্যা করে ফেলেন। 

 

এ সংবাদ হযরত আমর বিন আস [রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু] এর কাছে পৌঁছলে তিনি হযরত গুরফাকে বললেন, "এ লোকের সাথে তো আমাদের অঙ্গীকার আছে। সে হিসেবে সে তো নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য। তুমি তাকে হত্যা করলে কেনো?" 

 

হযরত গুরফা জবাব দিলেন- "তার সাথে আমাদের অঙ্গীকার একথার উপর নয় যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]- কে গালাগাল দিবে আর আমরা তার হিফাজত করবো।" {হায়াতুস সাহাবা-২/৩৫১, উর্দু এডিশন} 

.. 

 

 

# শাতেমে রাসূল সম্পর্কে চার মাযহাব এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়ার ফতোয়াঃ 

 

 

* ইমাম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) এর মাযহাব: 

 

আল্লামা খাইরুদ্দীন রামালী (রাহিমাহুল্লাহ) ফতোয়ায়ে বাযযাযিয়ায় লিখেছেন: 

 

“রাসূলের কটূক্তিকারীদের সর্বাবস্থায় হত্যা করা জরুরী। তার তওবা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। চাই সে গ্রেফতারের পরে তওবা করুক বা নিজ থেকেই তওবা করুক। কারণ এমন ব্যক্তির তওবার কোনো পরোয়াই করা যায় না এবং এই মাস’আলায় কোনো মুসলমানের মতভেদ কল্পনাও করা যায় না। এটিই ইমামে আযম আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ), আহলে কুফী ও ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) এর মাযহাব।” [তাম্বিহুল উলাতি ওয়াল হুক্কাম, পৃষ্ঠা ৩২৮] 

.. 

আল্লামা শামী (রাহিমাহুল্লাহ ) তাঁর ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ করেন: 

 

“সকল উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে একমত যে, রাসূলের কটূক্তিকারীকে হত্যা করা ওয়াজিব। ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম আবুল লাইস (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম ইসহাক (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ), এমনকি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাদ্বিয়াল্লাহু আবহু) সহ সকলের মতেই রাসূলের কটূক্তিকারীর তওবা কবুল করা হবে না।” 

.. 

ফিকহে হানাফির অন্যতম বড় ফকীহ ইমাম ইবনে হুমাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

“রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি বিদ্বেষপোষণকারী ব্যক্তি মুরতাদ হয়ে যায়। সুতরাং যে কটূক্তিকারী, সে তো আরো আগেই মুরতাদ হয়ে যাবে। আমাদের মতে, এমন ব্যক্তিকে হদ হিসেবে হত্যা করা জরুরী। তওবা গ্রহণ করে তার হত্যা মাফ করা যাবে না।” [ফাতহুল কাদীর, চতুর্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ৪০৭] 

.. 

 

* ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) এর মাযহাব: 

 

 

ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) একাধিকবার বলেছেন: 

 

"রাসূলের কটূক্তিকারীর শুধু গর্দানই উড়িয়ে দেওয়া নয়, তার লাশও যেন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।।ইবনে কাসেম (রাহিমাহুল্লাহ), ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেন যে, যে.রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে গালি দিবে, বদনাম করবে, দোষ-ত্রুটি বের করবে,।তাকে হত্যা করা হবে, চাই সে কাফের হোক বা মুসলমান, তার কাছে তওবা তলব করা হবে না।” [আস সারিমুল মাসলুল ‘আলা শাতিমির রাসূল] 

.. 

ইবনে কাসেম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন যে: 

 

ইমাম মালেক বলেছেন: শাতিমির রাসূল তথা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কটূক্তিকারীর গর্দান উড়িয়ে দিতে হবে। ইবনে কাসেম (রাহিমাহুল্লাহ) ইমাম মালেক (রাহিমাহুল্লাহ) কে জিজ্ঞেস করেন, ” আপনার।অনুমতি চাই যাতে মৃত্যুর পর তার লাশও জ্বালিয়ে দিতে হবে। এই কথা শুনে তিনি বললেন, অবশ্যই রাসূলের কটূক্তিকারী এই শাস্তিরই উপযুক্ত।” [কিতাব আশ শিফা বিত-তারিফি হুকুকুল মুস্তাফা, খন্ড-২] 

 

.. 

* ইমাম শাফেঈ(রাহিমাহুল্লাহ) এর মাযহাব: 

 

ইমাম খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

 

“আমার জানা মতে, কোনো একজন মুসলমানও রাসূলের কটূক্তিকারীদের হত্যা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দ্বিমত করেননি।” [ফাতহুল কাদীর, আস সারিমুল মাসলুল, ফাতহুল বারী] 

 

 

ইসহাক ইবনে রাহবিয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

” এ বিষয়ের উপর মুসলমানদের ইজমা সংঘটিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ অথবা রাসূল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে গালি দিবে কিংবা আল্লাহ্র নাযিলকৃত কোনো হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করবে সে কাফের হয়ে যাবে। যদিও সে আল্লাহ্র সকল বিধি-বিধান মানুক না কেন।” [আস সারিমুল মাসলুল ] 

.. 

 

* ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ) এর মাযহাব: 

 

 

শাইখুল ইসলাম ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

 

“আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি গালির ইঙ্গিত করাও ইরতেদাদের শামিল, যা হত্যাকে অবধারিত করে। ” 

 

তিনি আরো বলেন, “চাই সে কাফের হোক বা মুসলিম, রাসূলের কটূক্তিকারীদের হত্যা করতে হবে। আমার মতে তাদের হত্যা করতে হবে এবং তার তওবা কবুল হবে না।” [আস সারিমুল মাসলুল ‘আলা শাতিমির রাসূল] 

 

.. 

* শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এর মত: 

 

 

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ ) বলেন: 

 

 

“কোনো মুসলিম যদি নবীকে গালি দেয়, তাহলে সে কাফের ও মুরতাদ হয়ে যায়। এই বিষয়ে সবাই একমত যে, কোনো নবীকে গালি দিলেই সে কাফের এবং তাকে হত্যা করা জায়েয হয়ে যায়।” [আস সারিমুল মাসলুল ‘আলা শাতিমির রাসূল] 

 

তিনি আরো বলেন: 

 

"যদি কোনো জিম্মি বা জিযিয়া প্রদানকারী কাফির ও রাসূলকে অবমাননা করে তাহলে ও তাকে হত্যা করা হবে।কারণ তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে অবমাননা করার কারণে তার সাথে কৃত অঙ্গীকার নামা বাতিল হয়ে যাবে। [আস সারিমুল মাসলুল 'আলা শাতিমির রাসূল] 

 

.... {এক্ষেত্রে যুদ্ধবন্দী মুশরিক নাদার ইবনে আবী হারিছ ও উকবা ইবন আবী মুয়িদের ঘটনা দ্রষ্টব্য। তারা যুদ্ধবন্দী অবস্থায় ছিলো কিন্তু রাসূলকে অবমাননা করার কারণে তাদের হত্যা করা হয়} 

.. 

 

আরো কিছু দলীলঃ 

 

 

* ইমামে খাতিমাতুল মুজতাহিদীন তাক্বীউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল কাফী আস সুবকী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর “আসসাইফুল মাসলূল আলা মান সাব্বার রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] গ্রন্থে লিখেন যে: 

 

"শাইখুল ইসলাম ইমাম কাজী ইয়াজ বলেন: উম্মতের ইজমা একথার উপর যে, মুসলমানদের মাঝে যে ব্যক্তি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর শানে বেয়াদবী করবে, গালাগাল করবে তাকে হত্যা করা আবশ্যক।" 

.. 

 

* ইমাম আবু বকর ইবনুল মুনজির বলেন: 

 

" সমস্ত আহলে ইলম একথার উপর একমত যে যে ব্যক্তি রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে গালাগাল করবে, বা মন্দ বলবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।" 

 

ইমাম মালেক বিন আনাস, ইমাম আবুল লাইস, ইমাম আহমাদ এবং ইমাম ইসহাক ও এ বক্তব্যের প্রবক্তা। আর এটাই ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এর মাজহাব। 

.. 

 

* ইমাম কাজী ইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

" এমনিভাবে একই মত ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) হানাফী ফুক্বাহাদের, এবং ইমাম সাওরী, আহলে কুফা ও ইমাম আওজায়ী থেকে শাতেমে রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এর ব্যাপারে এমনটিই বর্ণিত (তাদের হত্যা করা হবে)।" {সুবুলু হুদা ওয়ার রাশাদ-১২/২১, আশ শিফা-২/২১১} 

 

 

* ইমাম মুহাম্মদ বিন সুহনুন বলেন: 

 

"ওলামায়ে কেরাম রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কে গালাগালকারী ও তাঁর নামে কুৎসাকারীদের কাফের হওয়ার উপর ইজমা তথা ঐক্যমত্ব হয়েছেন। আর এমন ব্যক্তির উপর আল্লাহর শাস্তি ও ধমক রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এমন ব্যক্তির কাফের হওয়া ও শাস্তির অধিকারী হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করবে,তার পক্ষে কথা বলবে সেও কাফের। 

.. 

 

* ইমাম আবু সুলাইমান খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন যে: 

 

"আমি এমন কোন মুসলমানের ব্যাপারে জানি না যে, এমন ব্যক্তির হত্যার আবশ্যকতার ব্যাপারে মতবিরোধ করে।" {রাসায়েলে ইবনে আবেদীন-১/৩১৬} 

 

 

* আল্লামা ইবনে হাজার আশকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

" নবীজী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে মন্দ মন্তব্যকারীকে হত্যা করে দেয়া হবে। আর মুসলমান হলে সে মুরতাদ হয়ে যায়। আর তার থেকে তওবা করার আবেদন করার দরকার নেই।" {বুলুগুল মারাম ফি আহাদীসিল আহকাম-১৩৩} 

... 

 

* আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: 

 

"যে ব্যক্তি ইসলাম বা কুরআনের বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্য করে, অথবা রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]- এর ব্যাপারে মন্দ কথা বলে ঐ ব্যক্তিকে হত্যা করা হবে।" {মাহাসিনুত তাওয়ীল-৫/১৪২} 

 

.. 

 

# শাতেমে রাসূলের শাস্তি কার্যকর করবে কে,কিভাবেঃ 

 

রাসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সিরাত ও উলামায়ে হক্বদের মত থেকে তিনটি পদ্ধতি বা কার্যক্ষেত্র পাওয়া যায়।যথা- 

 

*মুসলিম শাসক/খলীফাহঃ 

 

 ইমাম আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ) এবং ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) এর মতানুসারে তাকে হত্যা বা তার বিচার করবে ইসলামী রাষ্ট্রের মুসলিম শাসক/খলিফাহ। [বাদাউস সানায়ে]